টিকা উৎপাদনে ভারতের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব: বিল গেটস
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : টিকা উৎপাদনে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, এমনই মন্তব্য করলেন বিল গেটস। আবার ‘হার্ড ইমিউনিটি’ কোনও কাজের কথা নয়, করোনা নিরসনে টিকা তৈরি হওয়াটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, এমনটাই দাবি করলেন বিল গেটস। এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরও জানিয়েছেন, ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে চলেছে। এক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সুলভ মূল্যে উচ্চমানের টিকা উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে এই ভারতীয় সংস্থাগুলির।
উল্লেখ্য, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের (বিএমজিএফ) চতুর্থ বার্ষিক ‘গোলকিপারস রিপোর্ট’ প্রকাশিত হয়েছে। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে ২০ বছরের অগ্রগতি ভেঙে পড়েছে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে মহামারীর ঝটকায়। মহামারীর ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছে বৈষম্য। পাশাপাশি চরম দারিদ্র তা বেড়েছে ৭ শতাংশ। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের পূর্বাভাস অনুযায়ী জানা গিয়েছে, গোটা বিশ্বে ১৮ লক্ষ কোটি ডলারের আর্থিক স্টিমুলাস দেওয়া হয়েছে। এমনটা হলেও ২০২১ সালের শেষে বিশ্ব অর্থনীতি ১২ লক্ষ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হবে।
এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে বিশ্ব জিডিপি-র এত বড় পতন লক্ষ্য করা যায়নি। এই অবস্থায় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে করোনা পরিস্থিতিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে তাঁর আরও মন্তব্য, টিকা তৈরি হওয়ার পর উৎপাদনের জন্য ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। উল্লেখ করা যায়, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ইতিমধ্যেই হাত মিলিয়েছে গেটস ফাউন্ডেশন। করোনা পরিস্থিতিতে টিকা উৎপাদন ও বন্টনে গতি আনার লক্ষ্যেই এই প্রয়াস। তিনি আরও জানিয়েছেন, টিকার উৎপাদন ও অন্য উন্নয়নশীল দেশেও যাতে টিকা পৌঁছে যেতে পারে, সে সম্পর্কে ভারতের সদিচ্ছা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। টিকার সুষম বন্টনে ভারত সহযোগিতা করবে। শুধু ধনী দেশগুলিতে টিকা পৌঁছলে চলবে না। তার বদলে যাদের সবচেয়ে আগে প্রয়োজন, সেখানে টিকা পৌঁছলে অর্ধেক মৃত্যু ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

